বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণেও এগিয়ে টেলিকম : পলক

২৩ জানুয়ারি, ২০২৪ ১১:১৬  

প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বছর পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে বিটিআরসি। শুধু রাজস্ব নয়, দেশে নতুন প্রযুক্তির আবাহন, উদ্ভাবনী সল্যুশন ফ্যাসিলেটরের ভূমিকায় এমটব সদস্য ৪টি মোবাইল অপারেটর, বাক্কো’র ৮৭ সদস্য এবং আইএসপিএবি’র ২৮০০ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করেছে।

এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ প্রত্যেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টেলিকম ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির রূপান্তরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার অবৈতনিক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্বাচন থেকে প্রজন্মমুখীতা নীতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার অফিস সময়ের প্রত্যুষে রাজধানীর প্রশাসনিক এলাকা আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে টেলিযোগাযোগ খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে বিটিআরসি পলিসি প্রণয়ন, রেগুলেশনের পাশাপাাশি ফেসিলিটেটর হিসেবে আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পলক বলেন, পাওয়ার অ্যান্ড অ্যানার্জি, রোড অ্যান্ড ব্রিজেস ও পোশাক খাতের পর টেলিকম খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেশি এসেছে। এর ফলে আজকে যতগুলো মোবাইল ওয়ালেট দেখি সেখানেও বিটিআরসি’র রোল আছে। নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বকালীন জরুরী বৈঠকে বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের রফতানি আয় বাড়ানো, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তরুণ তরুণীদের জন্য স্মার্ট কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে বিটিআরসি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

দেশের ১০৫ শতাংশ টেলি ঘনত্বের কথা উল্লেখ করে টেলিকম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈপ্লবিক ভাবে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বেড়ে ২০২৩ সালের জুনে এসে ৪,৮৬৫ জিবিপিএস ছাড়িয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্তে এই পরিবর্তন হয়েছে। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বিটিারসি-কে নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয় আরো উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কৌশল নিয়ে ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন নতুর রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্র বের করতে হবে। চোরাই পথে আসা মোবাইল ফোন যেনো কেউ ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে উদ্ভাবনী শক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রযুক্তি দক্ষতায় স্মার্ট ইকোনোমি গড়ে তুলতে বিটিআরসি-কে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকার চেয়ে স্মার্ট ফ্যাসিলেটর হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসি‘র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ইশতেহার ঘোষণার পর বিগত ১৫ বছরে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিতে বিটিআরসি উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

কমিশনের সচিব (বিটিআরসি) মো: নূরুল হাফিজ এর সঞ্চালনায় প্রতিমন্ত্রীর দ্বিতীয় মতবিনিময় সভায় বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী শেখ রিয়াজ আহমেদ, অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ এহসানুল কবীর, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল-উর-রহমানসহ কমিশনের সকল স্তরের কর্মকতা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।